Blog

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার এর ইতিকথা।

ভাষা শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ১৯৬৪ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষার্থী ব্যক্তিগত আগ্রহের ফলে শহীদুল্লাহ কলাভবনের দক্ষিণে আম বাগানের মধ্যে তৈরি করেছিলেন শহীদ মিনার। রাবির প্রথম শহীদ মিনারটি তৈরিতে যাদের অবদান উল্লেখ্যযোগ্য তারা হলেন, আব্দুল হামিদ, আব্দুর রাজ্জাক, বায়েজিদ আহমেদ, শমসের আলী, আহসানুল করিম, ওমর ফারুক, সেলিমুজ্জামান, আবুল হোসেন, আবুল কাশেম, আব্দুল হাই, সাইদুর রহমান, একরামুল হক খুদ, নজরুল ইসলাম, মুস্তাফিজুর রহমান সুজা, প্রভাত কুমার প্রমুখ।
পরে ১৯৬৪-৬৫ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের প্রচেষ্টায় শহীদ মিনারটি পূর্ণাঙ্গ রুপ পায়। যদিও মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন পাক বাহিনী শহীদ মিনারটি ভেঙ্গে ফেলে। পরবর্তীতে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর বাংলা ১৩৭৯ সালের ২৬ বৈশাখ তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমান শহীদ মিনারটি বর্তমান স্থানে পুনরায় ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন এবং বাংলা ৯ বৈশাখ ১৩৯২ বা ২৩ এপ্রিল ১৯৭৫ সালে প্রধানমন্ত্রী এম. মনসুর আলী এর উদ্বোধন করেন।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল প্রশাসন ভবনের পূর্বে অবস্থিত এই শহীদ মিনারটি রাজশাহীর অন্যতম স্থাপত্য কীর্তি। শহীদ মিনারটি ২ লাখ ৯ হাজার বর্গফুট বা চার একর ভূমিতে ১২ ফুট উচু ৬ কোণা প্ল্যাট ফর্মের উপর ৫৬ ফুট লম্বা মূল শহীদ মিনারটিতে রয়েছে চারটি সাদা রঙের স্তম্ভ। মিনারে ওঠার জন্য রয়েছে সিঁড়ি। পেছনেই দুটি ম্যুরালে অঙ্কিত রয়েছে স্বাধীনতাযুদ্ধের নানা চিত্র। শহীদ মিনারের পটভূমিতে আছে বিখ্যাত শিল্পী মুর্তজা বশীরের ৩২১৬ ফুটের বিশাল ম্যুরাল। শিল্পী ফনীন্দ্রনাথ রায়েরও একটি ম্যুরালও আছে এই শহীদ মিনারে।
 
 
Share: